রাঙামাটিতে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ জনকে সনদ দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্য সহায়তাকারী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি রিজিয়নের প্রান্তিক হলে প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ১৫ জন চিকিৎসা সহায়তাকারীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে জেলার ১০টি উপজেলা থেকে নির্বাচিত চিকিৎসা সহায়তাকারীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্যাঞ্চলের অনেক দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান না। অনেক এলাকায় চিকিৎসক ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করাও প্রায়ই সম্ভব হয় না। ফলে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে এবং জরুরি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের গর্ভকালীন পরিচর্যা, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ঝুঁকিপূর্ণ রোগী শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহাগময় চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ওষুধ বিতরণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে পাবেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনবল সংকট। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য সহায়তাকারী তৈরি করা গেলে জরুরি মুহূর্তে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করার সুযোগও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্যাঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হলে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ একটি কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।