ভেদভেদীতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পৌর এলাকার কর্মহীন ও অসহায় এক হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এসব পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেদভেদী বাজারসংলগ্ন কারখানা বিভাগ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।
খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি। এ সময় রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম মিন্টু, সদস্য আনোয়ার আজিম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইদুল হক বাদশা, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাঙামাটি পৌর এলাকার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উপকরণ হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছে। পাহাড় ধস, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। দুর্যোগের সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সামর্থ্যবানদের সম্মিলিতভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা জানান, শুধু ৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের দুর্যোগকবলিত পরিবারগুলোর কাছেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো অসহায় পরিবার যাতে সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য সহায়তা বিতরণকে ঘিরে মাঠে বিপুলসংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতি দেখা যায়। রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। উপকারভোগীরা সারিবদ্ধভাবে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন।
হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, দুর্যোগের কারণে অনেক পরিবারেই আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় খাদ্য সহায়তা তাদের তাৎক্ষণিক সংকট কিছুটা লাঘব করবে। সহায়তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি সংস্কার, জীবিকা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন দুর্গত পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।