মহালছড়িতে কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে স্কুল পর্যায়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সহযোগিতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পেইনে কিশোরী শিক্ষার্থীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য অধিকার, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়ে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি মাসিকের সময় স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পরিচ্ছন্নতা এবং এ বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ডায়মন্ড খীসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক সুইহ্লা অং রাখাইন, স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রচার ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. কাউছারুল ইসলাম।
স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের উপজেলা সভাপতি বিপুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি মহিলা কল্যাণ সমিতির জেন্ডার ফোকাল পারসন স্বপ্না চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম অফিসার পূর্ণ বিকাশ ত্রিপুরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৈশোরকাল মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। এ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা বলেন, বিশেষ করে কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। মাসিককে ঘিরে প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বয়সোপযোগী তথ্য জানার সুযোগ থাকলে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরে ৫০ জন কিশোরী শিক্ষার্থীর মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, বিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরীদের স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সংকোচ ও ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে তাদের উৎসাহিত করাই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।