মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের জন্য চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’: ১,৩৯৩ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা

মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের জন্য চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’: ১,৩৯৩ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা

মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের জন্য চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’: ১,৩৯৩ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের সরকারি কৃষি সহায়তার আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গড়গড়িয়া নাল, গোমতী ও বান্দরছড়া—এই তিনটি কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে এসব এলাকায় ১ হাজার ৩৯৩ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি জেলা উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন চৌধুরী। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ও প্রকৃত কৃষকদের অনুমোদনের পর তাদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

সরকারি সহায়তা পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের কাছে

কৃষক কার্ড চালু হলে নিবন্ধিত প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কৃষি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন। সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি, কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রণোদনা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাটিরাঙ্গার স্থানীয় কৃষকরাও সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষক কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও হয়রানি কমবে। এতে কৃষকরাও কৃষিকাজে আরও উৎসাহিত হবেন।

মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের জন্য চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’: ১,৩৯৩ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা

পাহাড়ি-বাঙালি কৃষক পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা

কৃষক কার্ডের আওতায় মাটিরাঙ্গার পাহাড়ি ও বাঙালি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি কৃষিসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি
২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা
৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ
৪. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি
৫. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা
৬. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য
৭. কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ
৮. ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ
৯. কৃষি বীমা সুবিধা
১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমার আশা

মাটিরাঙ্গা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবদিন বলেন, প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকরা সার, বীজ, কৃষিঋণসহ সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন সুবিধা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় কৃষকের জমি, চাষাবাদ ও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন আরও নির্ভুল হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং একটি স্বচ্ছ কৃষি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নের যোগ্য কৃষকদের ডিজিটাল কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

আধুনিক কৃষির পথে আরও এক ধাপ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক কার্ড শুধু সরকারি সহায়তা পাওয়ার একটি মাধ্যম নয়; এটি কৃষকদের সঙ্গে সরকারি কৃষিসেবার সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কৃষকের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে কৃষি প্রণোদনা, ঋণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বাজারসুবিধা আরও পরিকল্পিতভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

পাশাপাশি আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ এবং কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষক কার্ড কার্যক্রম দ্রুত উপজেলার সব কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারিত হবে এবং নিবন্ধিত কৃষকরা যেন বাস্তবে ঘোষিত সুবিধাগুলো সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পান, তা নিশ্চিত করা হবে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে মাটিরাঙ্গার প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতা আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মাটিরাঙ্গার কৃষি খাত আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষকবান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *