মহালছড়িতে অসহায় দুই পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সেলাই মেশিন সহায়তা

মহালছড়িতে অসহায় দুই পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সেলাই মেশিন সহায়তা

মহালছড়িতে অসহায় দুই পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সেলাই মেশিন সহায়তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত দুই পরিবারের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন। তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে পরিবার দুটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে।

মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জাবির-আল আসিফ-এর উদ্যোগে জোনের পক্ষ থেকে উপজেলার নতুন পাড়া গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে ও মহালছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরবি আক্তার এবং মগপাড়া এলাকার মংহলাগ্য মারমার স্ত্রী হালাম্রা মারমার হাতে এসব সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার দুটির জন্য সেলাই মেশিন শুধু একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ নয়, বরং এটি আয়-রোজগারের একটি স্থায়ী পথ তৈরির সুযোগ। সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিবারের ব্যয় নির্বাহে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

সেলাই মেশিন পেয়ে দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, এই সহায়তা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারবেন। এতে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার সুযোগও তৈরি হবে।

বিশেষ করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরবি আক্তারের পরিবারের জন্য এ সহায়তার গুরুত্ব আরও বেশি। পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ শিখে আয় করার সুযোগ তৈরি হলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক সংকটে কিছুটা সহযোগিতা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তার নিজের দক্ষতাও বাড়বে। শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের এই সুযোগ ভবিষ্যতে তার আত্মকর্মসংস্থানের পথও তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে হালাম্রা মারমার পরিবারেও সেলাই মেশিনটি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করার মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সেলাইসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মহালছড়িতে অসহায় দুই পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সেলাই মেশিন সহায়তা

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি জনপদের অনেক অসহায় পরিবার নানা কারণে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এসব পরিবারের হাতে এমন উপকরণ তুলে দেওয়া হলে তারা নিজেরাই আয় করার সুযোগ পান। ফলে এটি কেবল এককালীন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে দেয়।

তাদের মতে, দুর্যোগ বা আর্থিক সংকটে তাৎক্ষণিক সহায়তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের সক্ষমতা বাড়িয়ে তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া আরও কার্যকর। মহালছড়ি জোনের সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগ সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো ভবিষ্যতে নিজেদের আয় দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

মহালছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অসহায় মানুষকে কর্মক্ষম করে তোলার উদ্যোগ পরিবার ও সমাজ—উভয় পর্যায়েই দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহালছড়ি জোনের মতো করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন কর্মমুখী উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে নারীদের ও তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

মহালছড়ি জোনের এ উদ্যোগ তাই শুধু দুটি পরিবারের হাতে দুটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং অসহায় মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি তাদের কর্মক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ তৈরির একটি বাস্তবমুখী প্রয়াস। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed