শিক্ষিত বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে রাঙামাটি সদর জোনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটিতে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে সেনাবাহিনীর চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার সকালে রাঙামাটি সদর জোনের পরিচালনায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেডে এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. জুলফিকার রহমান।
এ সময় সদর জোনের ক্যাপ্টেন সাদমান রাফিদ বিন আজমসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তোলা এবং তাদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে কম্পিউটারভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম যাতে ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. জুলফিকার রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এ এলাকার জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আয়োজনও সেই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেরই অংশ।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে সময়োপযোগী দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে। পার্বত্য এলাকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেজর মো. জুলফিকার রহমান আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কম্পিউটার পরিচালনা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক বাস্তবতায় কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। এমন বাস্তবতায় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথকে সহজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।