দুর্গম পাহাড়ের তরুণদের স্বাবলম্বী করতে নানিয়ারচর জোনের মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাঙামাটির নানিয়ারচরে ‘মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ-২০২৬’ শুরু হয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর তরুণদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
নানিয়ারচর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান-এর দিকনির্দেশনায় জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নানিয়ারচর জোন সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রশিক্ষণে মোট ১৪ জন তরুণ অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দুই জনগোষ্ঠীর তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মৌলিক ধারণা, মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্তকরণ ও মেরামতের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে নানিয়ারচর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তরুণদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের যৌথভাবে প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যতে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে।

নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজনীয় টুলস ও অন্যান্য সার্ভিসিং সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে সেগুলো কাজে লাগিয়ে নিজ উদ্যোগে সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই মোবাইল ফোন মেরামত ও সার্ভিসিংয়ের মতো কারিগরি দক্ষতার চাহিদাও রয়েছে। এ বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে এমন প্রশিক্ষণের আয়োজন প্রত্যন্ত এলাকার তরুণদের জন্য বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের একটি কার্যকর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে তরুণদের বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।