গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসবে লক্ষীছড়ি জোনের প্রশিক্ষণ

গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসবে লক্ষীছড়ি জোনের প্রশিক্ষণ

গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসবে লক্ষীছড়ি জোনের প্রশিক্ষণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন। খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের নিয়ে শুরু হয়েছে গর্ভকালীন স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা বিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ভবনে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা এবং স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা।

দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ১৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসবের প্রস্তুতি, প্রসবকালীন স্বাস্থ্যবিধি, প্রসব-পরবর্তী মায়ের পরিচর্যা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরামর্শ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ প্রসব সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাব অনেক সময় মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন বাস্তবতায় লক্ষীছড়ি জোনের এই উদ্যোগকে শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং দুর্গম এলাকার নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন দুর্গম এলাকার নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। একজন প্রশিক্ষণার্থী শুধু নিজে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্য নারী, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ প্রসবের বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের কী ধরনের যত্ন প্রয়োজন, নিরাপদ প্রসবের জন্য আগেভাগে কী প্রস্তুতি নিতে হয়, প্রসবের পর মা ও শিশুর কীভাবে পরিচর্যা করতে হয় এবং জরুরি অবস্থায় চিকিৎসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত কী ধরনের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া যায়—এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও বাড়বে।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো বিষয়ে সচেতনতা বাড়লে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব।

লক্ষীছড়ি জোনের এ উদ্যোগে দুর্গম এলাকার নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলে জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *