লংগদুতে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ৪৮ তরুণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির লংগদুতে পার্বত্য এলাকার বেকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পথ তৈরি করতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বুধবার জোন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীন লংগদু জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ। এ সময় জোনের জেডএসও মেজর মো. শাহীনূর আল সাকিব উপস্থিত ছিলেন।
লংগদু জোন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য এলাকার তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে গত ২৩ আগস্ট বিনামূল্যে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কম্পিউটার, মোবাইল রিপেয়ারিং, মেকানিক্যাল ও রিপেয়ারিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো ব্যবহারিক ও কর্মসংস্থানমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো যায় এমন বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া সনদ ও অর্জিত কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ অনেক সময় সীমিত থাকে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের মতো দক্ষতা স্বল্প পুঁজিতে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মেকানিক্যাল ও রিপেয়ারিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একটি অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে লংগদু জোনের এ উদ্যোগকে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দুর্গম এলাকার তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।