বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ২১ নারী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ২১ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত জনবলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই বিলাইছড়ি জোন ও রাঙামাটি রিজিয়নের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা, নিরাপদ মাতৃত্ব, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক করণীয় এবং মৌলিক নার্সিং সেবা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জোন অধিনায়ক বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ হলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব শেষ হয়নি। অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের পরিচর্যায় সহযোগিতা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত উপযুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ আরও সহজলভ্য করতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক সময় ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে মানুষের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত নারী জনবল তৈরি হলে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক পরিচর্যা এবং জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২১ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী এ মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণ চলাকালে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা, নিরাপদ মাতৃত্ব, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক করণীয় এবং মৌলিক নার্সিং সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।