টাইব্রেকারে সদরকে হারিয়ে প্রথম রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা বিলাইছড়ির

টাইব্রেকারে সদরকে হারিয়ে প্রথম রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা বিলাইছড়ির

টাইব্রেকারে সদরকে হারিয়ে প্রথম রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা বিলাইছড়ির
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম শিরোপা জিতেছে বিলাইছড়ি উপজেলা। রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিলাইছড়ি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে সদরকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে প্রথম আসরের শিরোপা নিজেদের করে নেয় বিলাইছড়ি।

সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে শুরু থেকেই রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর মাঠের বাইরে ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন ও উৎসবের আবহ।

টুর্নামেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া। ফুটবলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরির সুযোগ পান তরুণ খেলোয়াড়রা। ফলে প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটির মানুষের কাছে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে দীপেন দেওয়ান বলেন, তরুণ সমাজকে সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ‘মাদকমুক্ত হোক সমাজ, ক্রীড়া হোক হাতিয়ার’—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু—রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলা।

আয়োজকদের ভাষ্য, টুর্নামেন্টটির উদ্দেশ্য শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রথম আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে। এতে একদিকে যেমন রাঙামাটির ফুটবলে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধনও আরও শক্তিশালী হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।