আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন লংগদু জোন, বিজয়ী দলকে সংবর্ধনা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ফুটবল দলকে ৩–২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাঙামাটির লংগদু জোন ফুটবল দল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর শিরোপা নিশ্চিত করে লংগদু জোন। এই সাফল্যে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লংগদু জোনের উদ্যোগে বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর লংগদু জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। তিনি খেলোয়াড়দের ক্রীড়াসাফল্যের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে ওঠে। একটি দলকে সাফল্যের জন্য যেমন নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, তেমনি একে অপরের প্রতি আস্থা, সহযোগিতা ও দলগত সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রয়োজন। এসব গুণ একজন তরুণের ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, স্থানীয় তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো খেলাধুলা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ বাড়ে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত রাখতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
লংগদুর মতো পাহাড়ি এলাকায় খেলাধুলার আয়োজনের গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যন্ত এলাকার অনেক প্রতিভাবান তরুণ পর্যাপ্ত সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাবে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পান না। স্থানীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন হলে এসব তরুণ মাঠে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান। প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে উপজেলা, জেলা ও উচ্চতর পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও তৈরি করে।

জোন অধিনায়ক আরও বলেন, ক্রীড়া আয়োজন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি ফুটবল ম্যাচে ভিন্ন এলাকার ও ভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়েরা একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, আবার খেলা শেষে একে অপরের সাফল্যকে সম্মান করেন। এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ সামাজিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হলেও সেই প্রতিযোগিতা হতে হয় নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে। জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া, প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, দলীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখা এবং নিয়ম মেনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা একজন তরুণকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষ করে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তরুণদের সময় ও মনোযোগ গঠনমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা, মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো গুণাবলিও বিকশিত হয়।
লংগদু জোনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম স্থানীয় তরুণদের জন্য মাঠপর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একটি টুর্নামেন্টের সাফল্য শুধু একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মধ্য দিয়ে নতুন খেলোয়াড়দের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে লংগদুর স্থানীয় তরুণেরা খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ পাবেন। এতে তাদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি ‘লংগদু জোন কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি জনপদে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মানবিক, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলা হতে পারে সহজ ও কার্যকর একটি মাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, তরুণদের নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। লংগদু জোনের এ ধরনের ক্রীড়া উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় তরুণদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।