দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পে কারবারি সম্মেলন, বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পে কারবারি সম্মেলন ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সম্মেলনে ক্যাম্প কমান্ডার, অন্যান্য সেনাসদস্য, স্থানীয় কারবারি এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ মোট ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের শুরুতে দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন খন্দকার মেহেদী হাসান উপস্থিত কারবারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের মতামত, সমস্যা ও পরামর্শ জানতে চান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে কারবারিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত কারবারিরা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহলের কারণে এলাকায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদা আদায়ের প্রবণতাও অনেকাংশে কমেছে বলে তারা জানান। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা তুলনামূলক স্বস্তির সঙ্গে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছেন।
মতবিনিময়ের পাশাপাশি সম্মেলনে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাইন্যাবনছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ করে চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্মেলন শেষে বিদ্যালয়টির জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ বিতরণ করা হয়।
রাইন্যাবনছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়েন চাকমা, স্থানীয় কারবারি এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে এসব শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহের ফলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসার সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। রাইন্যাবনছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ বিতরণের উদ্যোগটিও সেই প্রয়োজন পূরণের একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্মেলনে স্থানীয় কারবারিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের ফলে এলাকার বাস্তব সমস্যা ও মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের জানার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে স্থানীয় প্রতিনিধিদেরও তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ হয়। এ ধরনের নিয়মিত মতবিনিময় স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও কার্যকর করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারি, শিক্ষক এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রয়োজনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকার এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।