পাহাড় ও সমতলের মানুষের সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

পাহাড় ও সমতলের মানুষের সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

পাহাড় ও সমতলের মানুষের সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ, পর্যটন ও পরিবেশসম্মত উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড় ও সমতলের মানুষের সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট ২০২৬ মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের উন্নয়ন ও নীতিগত উদ্যোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও স্কিমের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে জিওবি ও প্রকল্প সাহায্যসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমতল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমতুল্য সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যে শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ই-লার্নিং ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ এবং গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে তাদের অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সুযোগ পেলে পাহাড়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের পানি সংগ্রহের কষ্ট লাঘবের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য এলাকার নারীদের অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে তাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট কমাতে হবে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ ও সহজলভ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে নারীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এ খাত পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়ানোর জন্য সোলার প্যানেল স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ঢাকার শহরের একজন শিক্ষার্থী কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার একজন শিক্ষার্থী—যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। পাহাড়ের মেধাবী সন্তানরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং পরিবেশ—সব ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং, রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ইলিয়াস মেহেদীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *