পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পলাশপুর জোন ও খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কৃষি উপকরণ, শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী, খাদ্য সহায়তা, আর্থিক অনুদান, গৃহ নির্মাণসামগ্রী, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা এবং বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১১টায় পলাশপুর জোন সদরে এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলাশপুর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাঃ শাহীনূল ইসলাম।

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় আর্থসামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কার্যক্রমে সীমান্তবর্তী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, অসহায় পরিবার, এতিমখানা, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্রীড়া সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এ সহায়তার আওতায় আসে।

কর্মসূচিতে পলাশপুর জোনের সীমান্তবর্তী এলাকার সুবিধাবঞ্চিত দুই কৃষককে বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ, ইউরিয়া সার ও কীটনাশক স্প্রে মেশিনসহ কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়। কৃষকদের কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের উৎপাদন কার্যক্রমে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরিতে এ ধরনের সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চারটি দুঃস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি অসহায় পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য মোট তিন বান্ডেল ঢেউটিন দেওয়া হয়। আরও ছয়টি দরিদ্র পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি দরিদ্র পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে একটি সেলাই মেশিনও দেওয়া হয়। পরিবারের একজন সদস্যকে আয়মূলক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ সহায়তার উদ্দেশ্য।

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

শিক্ষাক্ষেত্রেও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ৪০ বিজিবি। একজন দরিদ্র কলেজ শিক্ষার্থীকে বই উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য ১০টি টেবিল এবং একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য এক হাজার ইট ও ১০ বস্তা সিমেন্ট প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে ফুটবল বিতরণ করা হয়। এছাড়া একটি স্পোর্টিং ক্লাবকে ২২ সেট জার্সি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পথও প্রশস্ত হয়।

পানি সংকট মোকাবিলায় একটি গ্রামের কৃষকদের জন্য পাইপসহ একটি নলকূপও প্রদান করা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষিকাজেও সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করা স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রয়োজন।

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

এছাড়া একটি এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে দুটি পূজামণ্ডপেও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন জাতের ১০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সম্প্রীতির সমাজ ব্যবস্থা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বমোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এতে চারটি পাহাড়ি পরিবার, ১২টি বাঙালি পরিবার এবং ১১টি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ মোট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

কর্মসূচির মাধ্যমে একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারকে সহায়তার আওতায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, কৃষি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দেওয়ায় কর্মসূচিটি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় পর্যায়েই বিস্তৃত হয়েছে।

ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাঃ শাহীনূল ইসলাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি এ অঞ্চলে নিয়মিত মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে বিশেষ মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি জনপদের দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহায়তা ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিজিবি অতীতেও মানুষের পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও স্থানীয় দুঃস্থ পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের পাশে থেকে সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিজিবি অবদান রেখে যাবে।

পাহাড়ি-বাঙালি অসহায় মানুষের পাশে ৪০ বিজিবি, কৃষি-শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট প্রয়োজনও অনেক সময় বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। কৃষি উপকরণ, খাদ্য, ঘর নির্মাণসামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ কিংবা আয়মূলক কাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম—সময়মতো এসব সহায়তা পেলে দরিদ্র পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। একইভাবে শিক্ষা, ক্রীড়া, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিসরও বাড়ে।

এ ধরনের কর্মসূচিতে শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়। কৃষকের হাতে উৎপাদন উপকরণ, শিক্ষার্থীর হাতে বই, দরিদ্র পরিবারের জন্য খাদ্য ও ঘর নির্মাণসামগ্রী, তরুণদের জন্য ক্রীড়া উপকরণ এবং গ্রামবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা—প্রতিটি সহায়তাই স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি জনসেবামূলক কার্যক্রমও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব উপকার বয়ে আনার সুযোগ তৈরি করছে।

পলাশপুর জোন ও খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর এ উদ্যোগে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আওতায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ জোরদারে সহায়ক হতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ৪০ বিজিবি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *