দীঘিনালায় আল হেরা ইসলামি একাডেমিতে কুরআনের সবক ও পুরস্কার বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আল হেরা ইসলামি একাডেমির শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২৬ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের সবক গ্রহণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গজল, হাদিস ও কেরাত পরিবেশন উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়ায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আল হেরা ইসলামি একাডেমির মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ইদ্রিস।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গজল, হাদিস ও কেরাত পরিবেশন করে। তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। পরে বেলছড়ি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইলিয়াস শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা মো. জামালুল হাচান জামিল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নুরুল আফসার মোনাফ, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. শামসু রানা, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. রাকিব, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মুন্না আজিজ এবং দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম বদিউজ্জামান।
এ ছাড়া বাসস্টেশন জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রুহুল আমিন, রসিকনগর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আব্দুল কাদের, হাসিনসনপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আরমান হোসাইন এবং বোয়ালখালী বাজার মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. মাহাবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আল হেরা ইসলামি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন বিন সুরুজ।

আল হেরা ইসলামি একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ২৬ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের সবক গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা একাডেমির শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, একাডেমিতে যাতায়াতের রাস্তাটি বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তাটিতে পানি ও কাদা জমে যায়। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মুন্না আজিজ বলেন, আল হেরা ইসলামি একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তার ছেলেও এই একাডেমিতে পড়াশোনা করছে। তবে একাডেমিতে যাতায়াতের রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি ও কাদা জমে যায়। ছোট শিশুদের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে একাডেমির সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
একাডেমির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোছা. আমেনা বেগম বলেন, তার মেয়ে আল হেরা ইসলামি একাডেমির শিশু শ্রেণিতে পড়ে এবং তাকে নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কাদা ও পানির কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ছোট শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য একাডেমির অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজন। তারা আল হেরা ইসলামি একাডেমির শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একাডেমিতে চলাচলের রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।