দীঘিনালায় ক্যাংঘর নির্মাণ নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধ, কাগজপত্র যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ সেনাবাহিনীর
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার রসিকনগর গোলছড়ি নৌতপাড়া এলাকায় বাঙালিদের নিজেদের দাবি করা জমি দখল করে ক্যাংঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। পরে উভয় পক্ষকে তাদের নিজ নিজ জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতার কাগজপত্র নিয়ে জোন সদরে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোলছড়ি নৌতপাড়া এলাকায় ক্যাংঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের আওতাধীন বেতছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সময়ে দীঘিনালা জোন সদর থেকেও একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও উপজেলা প্রশাসন তথা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সংশ্লিষ্টরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং যাতে বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।
ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের দাবি বা অভিযোগকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করে বিষয়টি কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষকে তাদের জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দীঘিনালা জোন সদরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলছড়ি নৌতপাড়া এলাকায় ক্যাংঘর নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগে একই এলাকায় জমির মালিকানা ও স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, দীঘিনালা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও রসিকনগর গোলছড়ি এলাকায় বাঙালিদের জমি দখল করে ক্যাংঘর নির্মাণের পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছিল।
পার্বত্য এলাকায় ভূমি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, বসতভিটা কিংবা ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান না করা হলে বৃহত্তর সামাজিক বিরোধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। গোলছড়ি নৌতপাড়ার ঘটনাতেও শুরুতেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেন এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে জোন সদরে কাগজপত্র নিয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতির সিদ্ধান্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনার পরিবর্তে সরকারি নথি ও বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তী বৈঠকে উভয় পক্ষের জমি-সংক্রান্ত দলিল, মালিকানার প্রমাণপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ভূমি অফিসের রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিও যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা এবং ক্যাংঘর নির্মাণের বিষয়ে আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় নতুন করে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।