শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে দুই শিক্ষকের হাতাহাতি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদ
কক্সবাজারের রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতাহাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক ক্লাস চলাকালে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শিক্ষক মুফিজ ও শিক্ষিকা মেরি পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দুই শিক্ষকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকদের এমন আচরণে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, শিক্ষক মুফিজ ও শিক্ষিকা মেরির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তবে তাঁদের বিরোধের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
বিদ্যালয়ে গুঞ্জন রয়েছে, অর্থনৈতিক লেনদেন বা হিসাব-নিকাশ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা প্রশাসনিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কারণটি নিশ্চিত করেনি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকদের এমন আচরণ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের মতে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেবেন; সেখানে শ্রেণিকক্ষেই তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি তো ছুটিতে। এত দূর থেকে আমি কিছু বলতে পারব না।’
ঘটনাটি সামনে আসার পর বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোনো বিরোধ থেকে থাকলে তা আগে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
রামু উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।