ভারতের মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৯

ভারতের মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৯

ভারতের মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৯
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার সহিংসতায় রাজ্যের তিন জেলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন নাগা, দুজন কুকি এবং একজন গোর্খা কৃষক রয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক এনএইচ-২০২ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নাগা ও ৩১ জন কুকি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ এই সহিংসতাকে গত এক বছরের মধ্যে মণিপুরের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি রাজ্য কর্তৃপক্ষ। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন অবশ্য মণিপুর এবং মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে।

কুকি নারী নিহত হওয়ার পর উত্তেজনার বিস্তার

শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ৪২ বছর বয়সি কুকি নারী ডমখোনেই টাউথাং। গ্রামরক্ষীদের নিরাপত্তাচৌকি সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি যৌথ দল ওই চৌকিগুলো অপসারণ করছিল।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির সময় ডমখোনেইয়ের পা ও বুকে গুলি লাগে। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

কুকি-জো সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের (আইএম) সদস্যদের দায়ী করেছে। তাঁর মৃত্যুর পরপরই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। শনিবার ভোরে নাগা ও কুকি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানে আগুন দেওয়া হয় এবং শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি।

চাসাদ ও নিংচৌয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড

শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে চাসাদ গ্রামে হামলায় ২২ বছর বয়সি মাইকেল এনগামমিনলেন হাওকিপ নিহত হন। এ সময় কয়েকটি কুকি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কুকি সিভিল সোসাইটি ওয়ার্কিং কমিটির অভিযোগ, হামলাটির পেছনে এনএসসিএন (আইএম) জড়িত ছিল।

এর কয়েক ঘণ্টা পর, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন কামজং জেলার নিংচৌ গ্রামে দুই নাগা বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সি এনগাচানসো নিংশেন এবং ৪৫ বছর বয়সি লেইশিশান লেইশাদাং।

অন্যদিকে, কাংপোকপি জেলার মাকুই আসাং নামের একটি লিয়াংমাই নাগা গ্রাম ঘিরে ফেলে কুকি সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) গোষ্ঠীর সদস্য বলে অভিযোগ ওঠা সশস্ত্র ব্যক্তিরা। তাঁরা গ্রাম লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেন।

গ্রামটির প্রতিরক্ষায় থাকা নাগা বাসিন্দারা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও একনলা বন্দুক নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সংঘর্ষে চারজন গ্রামরক্ষী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অজিনপৌ রিংকাংমাইকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নিহত অন্য তিনজন হলেন দাইমাই মাচুংগামমাং, রবার্ট ও ডি রিংকাংমাই।

উখরুলে গোর্খা কৃষককে হত্যা

উখরুল জেলায় পৃথক একটি হামলায় প্রাণ হারান ৪০ বছর বয়সি গোর্খা কৃষক সন্দীপ রাই। শনিবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে মহাদেব-তোলই-ফুতসেরো সড়ক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তিনি বলেন, নেপালি সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের হত্যাকাণ্ড বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

সহিংসতার সময় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর স্বীকৃতি দিয়েছেন মোদি। পাশাপাশি মণিপুরের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

রাজ্যের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কীভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং ভারতীয় রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *