পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত- ভারতীয় কূটনীতিক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
তিনি বলেন, চুক্তিটি পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কোনো রাষ্ট্র সেই আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি দুর্বল করে একই সঙ্গে চুক্তি থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখার দাবি করতে পারে না।
এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চুক্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার প্রসঙ্গে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের নেটওয়ার্কের ইতিহাস উল্লেখ করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। ওই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল এই নেটওয়ার্ক।
বেদি এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫৪০ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ২০০৪ সালে গৃহীত এই প্রস্তাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং এ-সংক্রান্ত উপকরণ যাতে অরাষ্ট্রীয় পক্ষের হাতে না পড়ে, সে জন্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সব রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল সরবরাহকারীর উচিত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এটি শুধু ভারতের নিরাপত্তার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেও জরুরি।
পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিয়ে প্রচলিত যুদ্ধের সীমার নিচে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের পরিণতি এড়ানোর কৌশলের সমালোচনা করেন বেদি। তার মতে, এ ধরনের কৌশল সংঘাত কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মিত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। পারমাণবিক শক্তির উপস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য উসকানিমূলক কার্যক্রমের পরিণতি সীমিত রাখার চেষ্টা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
বেদির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, পরে দায় অস্বীকার করা হয়। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংযমের আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, অরাষ্ট্রীয় পক্ষের আড়ালে কোনো রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করলে সেই রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এ সময় ভারতের অবস্থানের তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন বেদি। প্রথমত, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত। তৃতীয়ত, যারা সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয় এবং যারা হামলার পরিকল্পনা করে, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না নয়াদিল্লি।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বেদি অঞ্চলটিকে দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেদি বলেন, ভারত সব সময় শান্তির পক্ষে থেকেছে এবং সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণ করা জরুরি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।