শান্তির কথা বলেও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা, নিহত ২৭

শান্তির কথা বলেও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা, নিহত ২৭

শান্তির কথা বলেও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা, নিহত ২৭
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করলেও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সামরিক জান্তা। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচটি অঞ্চল ও রাজ্যে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

গত ১৬ অক্টোবর রাজধানী নেপিডোতে দেশটির জাতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি (এনসিএ) স্বাক্ষরের ১১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সমাপনীতে বক্তব্য দেন জান্তার নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার পায়ে। তিনি একই সঙ্গে ন্যাশনাল সলিডারিটি অ্যান্ড পিসমেকিং নেগোশিয়েশন কমিটির (এনএসপিএনসি) চেয়ারম্যান।

বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে ওঠা মানবিক উদ্বেগের জবাবে ইয়ার পায়ে দাবি করেন, চলমান সামরিক অভিযান শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টার অংশ। তাঁর ভাষ্য, সামরিক তৎপরতার কিছু অংশ সরাসরি অভিযান হলেও অন্য অংশগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে জান্তা কর্তৃপক্ষ জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে (ইএও) কথিত শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে (পিডিএফ) আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগওয়ে অঞ্চলের ইয়েসাগিও টাউনশিপের থিতগিয়িতাও গ্রামে স্টারলিংকভিত্তিক ওয়াই-ফাই সেবাকেন্দ্রে বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জান্তা সরকারের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে অনলাইনে যুক্ত হতে এ ধরনের সেবার ওপর নির্ভর করেন। জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে এক ও ১০ বছর বয়সী দুটি শিশু রয়েছে। আহত হন আরও দুজন।

এনইউজির মানবাধিকার বিভাগ জানিয়েছে, বোমা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভাগটি হামলাটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম অবশ্য এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে।

এনইউজির দাবি, হামলায় রাশিয়ায় তৈরি দুটি এমআই-৩৫ আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, মাগওয়ে ও ন্যাউং-উ থেকে উড্ডয়ন করা দুটি যুদ্ধবিমান এবং পাকোক্কুভিত্তিক ১০১ নম্বর লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের দুটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

একই দিন সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং টাউনশিপের মাগিয়িকান গ্রামেও বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রোববার রাখাইন রাজ্যের রাথেদাউং এলাকায় আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণাধীন জাতিগত রাখাইন অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। রাখাইন লেখক ও মানবিক সহায়তাকর্মী ওয়াই হুন অংয়ের বরাতে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

একই দিন চিন রাজ্যের আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত পালেতওয়ায় একটি নৌঘাটে হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ ঘটনায় ২০ জন হতাহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জান্তা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ১৮ অক্টোবর মান্দালয় অঞ্চলের সিঙ্গু টাউনশিপের শ্বেবায়েত গ্রামে জান্তার একটি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং চার নারী ও কিশোরী আহত হন বলে সিঙ্গু পিপলস ডিফেন্স ফোর্স সোমবার জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

মাগওয়ে অঞ্চলের পাকোক্কু টাউনশিপের ওনতাও গ্রামেও রোববার তিনটি জাইরোকপ্টার থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় দুই বছর বয়সী এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।

এনসিএর ১১তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইং ২০১৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী, বর্তমানে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত কয়েকটি সংগঠনকে শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং অল বার্মা স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। অন্যদিকে, পিডিএফের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে জান্তা কর্তৃপক্ষ।

শান্তি আলোচনার আহ্বান এবং বেসামরিক এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলার মধ্যে মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে হতাহতের সংখ্যা ও হামলার বিবরণে গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর তথ্যে পার্থক্য রয়েছে; কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে জান্তা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed