মিয়ানমারের তেলসমৃদ্ধ মিয়াইংয়ে জান্তা বাহিনীর অভিযান, পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

মিয়ানমারের তেলসমৃদ্ধ মিয়াইংয়ে জান্তা বাহিনীর অভিযান, পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

মিয়ানমারের তেলসমৃদ্ধ মিয়াইংয়ে জান্তা বাহিনীর অভিযান, পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় মাগওয়ে অঞ্চলের মিয়াইং টাউনশিপে বিমান হামলার সহায়তায় সামরিক অভিযান জোরদার করেছে জান্তা বাহিনী। দেশটির তেলসমৃদ্ধ এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

পাকোক্কু থেকে লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অতিরিক্ত সেনা এনে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। তেলসম্পদের কারণে এলাকাটি ‘আনিয়ার দুবাই’ নামে পরিচিত। ২০২২ সাল থেকে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তেলসম্পদ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস বন্ধ করতে জান্তা বাহিনীর একাধিক প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে।

তবে গত ২৪ মে প্রায় এক হাজার সেনার সহায়তায় শুরু হওয়া জান্তা বাহিনীর এক অভিযানে তে গি গ্রামের ওয়েল-২ তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনারা। এরপর থেকে ওই এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর নতুন করে সেনা সমাবেশ শুরু হয়। ওই দিন পাকোক্কু টাউনশিপের কাম্মা শহরে জান্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সেনা পৌঁছায়। একই সময়ে জাইরোকপ্টার থেকে কাছের ওনতাও গ্রামে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং চারজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার জান্তা বাহিনীর সেনারা মিয়াইং টাউনশিপের টুইনমা গ্রামে পৌঁছে সেখানে অবস্থান নেয়। গ্রামটি জান্তাপন্থী মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আনিয়ার মেই সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের সায়ার হ্তওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাদের অগ্রযাত্রা ও বিমান হামলার আশঙ্কায় আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছেন।

সায়ার হ্তওয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবাদিকে বলেন, সেনারা কোন দিকে অগ্রসর হবে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে তে গি গ্রামে অবস্থানরত সেনাদের শক্তি বাড়াতেই এ অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

তে গি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত তিন মাসের লড়াইয়ে জান্তা বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে অবরুদ্ধ সেনারা গোলাবারুদ ও রসদের জন্য আকাশপথে সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর জান্তা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই এলাকায় ১৩১টি ছোট আকারের তেল উত্তোলন স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তাদের বাহিনী। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে এসব স্থাপনা চলে যাওয়া ঠেকাতে কয়েকটি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মাগওয়ে অঞ্চলের প্রতিরোধ জোট আনিয়ার মেই কোয়ালিশন সোমবার সাধারণ মানুষকে বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, পাকোক্কু, মিয়াইং ও পাউক টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর সেনা সমাবেশ চলছে।

জোটটি আরও অভিযোগ করেছে, মে মাস থেকে তে গিতে অবস্থানরত জান্তা সেনারা প্রায় ৫০ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং ৬০০টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed