সাজেক সড়কে অবরোধের অষ্টম দিন, খাদ্যসংকটে ১০ হাজার মানুষ

সাজেক সড়কে অবরোধের অষ্টম দিন, খাদ্যসংকটে ১০ হাজার মানুষ

সাজেক সড়কে অবরোধের অষ্টম দিন, খাদ্যসংকটে ১০ হাজার মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির সাজেক সড়কে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধের সমর্থনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে। টানা অবরোধে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ায় এলাকাটিতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন নামে ইউপিডিএফ মদদপুষ্ট দুটি সংগঠনের ডাকা এই অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। টানা অবরোধে পর্যটন খাতে প্রতিদিন এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অবরোধের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সাজেকের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অনিত্য কুমার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকা খাদ্যসামগ্রীর মজুদ প্রায় শেষের দিকে। যে খাবার অবশিষ্ট রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী এক থেকে দুই দিন চলতে পারে। একই সঙ্গে ফুরিয়ে আসছে ওষুধের মজুদও। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে গুরুতর সংকটে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সংকট নিরসনে উজবাজারে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দাবিতে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন প্রথম দফায় ১১ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয়। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি নিয়ে সমঝোতা হলেও সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র গ্রুপকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অচলাবস্থা কাটেনি। এই দাবিতে অনড় অবস্থানের কারণে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

অবরোধের অষ্টম দিনেও সমাধান না আসায় সাজেকের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার খাদ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবিক দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *