১৯০০ সালের শাসন বিধি: লামার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তর, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ

১৯০০ সালের শাসন বিধি: লামার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তর, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ

১৯০০ সালের শাসন বিধি: লামার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তর, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের বৃহত্তর লামা উপজেলার সব ধরনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থানীয় উপজেলা কার্যালয় থেকে সরিয়ে জেলা সদরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লামার দুই লাখেরও বেশি বাসিন্দা। জনদুর্ভোগ এড়াতে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে আগের মতো স্থানীয় উপজেলা কার্যালয় থেকেই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০-এর ২০ বিধি অনুযায়ী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ আদেশ জারি করেন। আদেশে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। এতদিন এসব কার্যক্রম লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে লামা উপজেলায় বায়নাপত্র, সাব-কবলা, দানপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও চুক্তিনামাসহ মোট ১ হাজার ২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব কাজের জন্য এতদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের উপজেলা পর্যায়েই সেবা পাওয়ার সুযোগ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লামা থেকে বান্দরবান জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত ছোটখাটো কাজের জন্যও এখন থেকে জেলা সদরে যেতে হলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে জমিজমা ও দলিলসংক্রান্ত কাজে একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সম্পত্তিসংক্রান্ত কাজে বাড়তি জটিলতা তৈরি করবে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ ভোগান্তি আরও বেশি হবে। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আদেশটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এডিসি রেভিনিউর সঙ্গে কথা বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি।”

স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগের মতো লামা উপজেলা কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হোক। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় এবং স্থানীয় জনগণের সেবা পাওয়ার সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed