সংঘাত ও লাগাতার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক, বৌদ্ধদের ‘কঠিন চীবর দান’ বাতিল
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
সশস্ত্র সংঘাত, গোলাগুলি ও লাগাতার অনির্দিষ্টকালের অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে রাঙামাটির প্রখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির সার্বিক জনজীবন। গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে সারাদেশের সাথে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় চরম খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মহীন হয়ে পড়েছে পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত ‘সাজেক গন অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর পর এবার অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’ নামের নতুন আরেকটি সংগঠন। এই তিন সংগঠনের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে থমকে গেছে পুরো এলাকার অর্থনীতি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিদ্যমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে। নিরাপত্তার অভাবে বাতিল করা হয়েছে সাজেকের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ কঠিন চীবর দান’। সাজেক বনানী বন বিহারের অফিশিয়াল প্যাডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠান বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সকল দায়ক-দায়িকা, ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকা, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তবৃন্দের কাছে অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী এভাবে পাল্টা পাল্টি অবরোধ চলতে থাকলে যে কোন সময় পাহাড়ি বাঙ্গালীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত শুরু হতে পারে। এতে লাভবান হবে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোই ।
দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ না থাকায় সাজেকে এখন তীব্র মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পর্যটন পেশাজীবীরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।