পাহাড়ের সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের বিক্ষোভ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতা বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিকভাবে সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ইখতিয়ার ইমন।
সমাবেশে ইখতিয়ার ইমন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতা, সংঘাত ও সহিংসতা দেশের সামগ্রিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়। পাহাড়ের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীর একার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা না করে এর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাকসু নেত্রী হেমা চাকমার পক্ষ থেকে ডাকসুকে সম্পৃক্ত করে সংবিধান সংস্কার কমিটির কাছে আদিবাসী স্বীকৃতি ও জুম্মল্যান্ড-সংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়ে তাঁদের সংগঠনের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, হেমা চাকমার এসব দাবি অসাংবিধানিক এবং তা পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।
সমাবেশে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের বান্দরবান প্রতিনিধি অংসিংথোয়াই মার্মা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সহিংসতা বন্ধ, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের কার্যকর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাজু, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সদস্য উথোয়মি মার্মা, থংপং ম্রো, উসাই মার্মা, আহমদ রেদোয়ান, সাইফুল ইসলাম, আবদুর রহিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।