ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’: ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ সতর্কতা - Southeast Asia Journal

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’: ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ সতর্কতা

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা আরও শক্তিশালী হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এখন এর কেন্দ্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ১৪০ কিলোমিটার হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুত উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যে সব রোহিঙ্গা শিবিরে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। মাইকিং করে ক্যাম্পের দুর্বল ঘরগুলো বাঁশ ও রশি দিয়ে মজবুত করতে বলা হচ্ছে

শুক্রবার (১২ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, “ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগ ১৪ মে সকাল ৬টার পর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় কেন্দ্র দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ও পেছনের অংশ সন্ধ্যা থেকে ১৫ মে সোমবার ভোর পর্যন্ত উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি জানান, এটি স্থলভাগে ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বলোচ্ছাসের উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে এই তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানও। তিনি বলেছেন, “ঝড়টি টেকনাফের ওপর দিয়ে গেলে ও এই গতিবেগ থাকলে রোহিঙ্গাদের যে বসতি রয়েছে, সেগুলো যেহেতু অস্থায়ী আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশ, টিন, পলিথিন দিয়ে, প্লাস্টিক টিন দিয়ে- সেখানে একটা ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।”

“মোখা” মোকাবিলায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাড়ে তিন হাজার ভলেন্টিয়ার প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়।

এছাড়া ভূমিধস ও বন্যায় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার আরআরআরসি’র এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি বিষয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। সভায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সব ধরনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পে স্কুল, ও মসজিদ-মাদ্রাসাসহ মজবুত সেন্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

আরআরআরসি কার্যালয় জানায়, ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রেডক্রস, মেডিক্যাল টিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দমকল বাহিনী, বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মীসহ রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরাও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রয়েছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, “ইতোমধ্যে সব রোহিঙ্গা শিবিরে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। মাইকিং করে ক্যাম্পের দুর্বল ঘরগুলো বাঁশ ও রশি দিয়ে মজবুত করতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণদের চিহ্নিত করে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডেভেলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, “ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে ক্যাম্পের সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের পাশের স্কুল এবং খাদ্য বিতরণ সেন্টারে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।”

উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. হোসাই জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত আনতে পারে এমন আশঙ্কার খবর ক্যাম্পে প্রচার করা হচ্ছে। ক্যাম্প পাহাড়ের তীরে ও ঝুপড়ি ঘর হওয়ায় তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মো. আলী বলেন, “যারা পাহাড়ের খাড়া ঢালে ঘর তুলেছে, তারা ঘূর্ণিঝড় আসার খবরে ভূমিধসের ভয়ে আছেন। আর যারা নিম্নাঞ্চলে থাকছেন, বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারাও।”

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরের মসজিদ, লার্নিং সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ অবহেলা না করে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে।”

৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আমির জাফর বলেন, “ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রসহ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে।”