মিয়ানমারে প্রার্থী ও নির্বাচন রক্ষায় নতুন আইন তৈরি করছে জান্তা
![]()
নিউজ ডেস্ক
পরিকল্পনা মাফিক আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে মিয়ানমারে। দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনকে সফল করতে বিশেষ আইন তৈরির কাজ করছে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন করা রাজনৈতিক দলগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম দ্য ইরাবতী।
গত বছর অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জান্তা-অনুগত রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইংকে তাদের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
তারা অভ্যুত্থানের পর সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও তুলে ধরে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সহ-সভাপতি টিন্ট সোয়ে বলেন, ‘নির্বাচন রক্ষায় আইন থাকা ভালো। যদি আইন থাকে, তাহলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর বর্তাবে। নির্বাচন সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ, তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার ২০০৮ সালের সংবিধান অনুসারে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল পরিচালনা করে আসছে। তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরকেই নিশ্চিত করতে হয়।’
২০২১ সালে অভ্যুত্থান করার পর থেকে জান্তা বারবার জরুরি অবস্থা বাড়িয়েছে, তবে সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ আগামী ৩১ জুলাই শেষ হবে। ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী, এরপর জান্তাকে ক্ষমতা ফেরত দিতে হবে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাছে—যার নেতৃত্বেও রয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
এই কাউন্সিলের কাজ হবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন আয়োজন করা। আরাকান পায়োনিয়ার পার্টির চেয়ারম্যান ড. আয়ে মং জান্তা সরকারের মিডিয়াকে বলেছেন, ‘জান্তা সম্ভবত ১ আগস্টের আগেই নির্বাচন সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করবে।’
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় আগের বছরের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে সামরিক বাহিনী। আর তখন থেকেই তারা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
চলতি বছরের মার্চে জান্তা সরকার জানায়, নির্বাচন ধাপে ধাপে ডিসেম্বরে ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে, তবে এখনো তারা নির্বাচনী এলাকা বা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
গত মাসে জান্তার নির্বাচন কমিশন জানায়, দেশের ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৭টিতে ভোটগ্রহণ হবে।
তবে জান্তা রাজধানী ও প্রধান শহরগুলো ছাড়া অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তারা এমনকি স্বীকার করেছে, ভোটের আগে করা আদমশুমারিতে ৫ কোটি ১০ লাখের মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আইন সুরক্ষার চেয়ে দমননীতির উদ্দেশ্যেই বেশি প্রয়োগ করা হবে।
ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জান্তার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৭৭টি দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৪টি অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯টি দল— যার মধ্যে আছে সামরিক বাহিনীর মিত্র ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি ৪৫টি দল স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।