সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএলআর ও ১৮০ রাউন্ড গুলিসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে একটি এসএলআর রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩৪ বিজিবি)। সীমান্তে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বিজিবির এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩৪ বিজিবির একটি টহল দল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে এক যুবককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি এসএলআর রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিনসহ ১৮০ রাউন্ড গুলি এবং একটি জলপাই রঙের বান্ডুলি উদ্ধার করা হয়।
আটকের পর তাকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটক ব্যক্তিকে বান্দরবান আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আকরাম উল্লাহ জানান, আটক ব্যক্তির নাম খেং মং চো (২০)। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মন্ডু জেলার মদক ক্রাহ্লাঅং পাড়ার বাসিন্দা এবং উচিং মং-এর ছেলে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা রুজু করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাতেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ি, তুমব্রু, ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট খায়রুল আলম বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী প্রতিটি বিওপির সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় পরিত্যক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, গোলাগুলির শব্দ শোনা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।