উত্তরপ্রদেশে মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নিলো হিন্দুত্ববাদী যোগী প্রশাসন

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নিলো হিন্দুত্ববাদী যোগী প্রশাসন

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নিলো হিন্দুত্ববাদী যোগী প্রশাসন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার পিপারিয়া গ্রামে একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। মসজিদ কমিটির দাবি, ইলাহাবাদ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও মহকুমা শাসক (এসডিএম) আদালতের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোজিপুরা থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে ৩০০ বর্গগজ এলাকায় বিস্তৃত মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জমিটি খালি করে দেয় প্রশাসন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উচ্ছেদ শেষে প্রশাসন জমিটি নিজেদের দখলে নেয়।

বেরেলি সদরের এসডিএম প্রমোদ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মসজিদটি গ্রামসভার জমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। তদন্তের পর এসডিএম আদালত এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মসজিদের মুতাওয়াল্লি মোহাম্মদ ইকবাল প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বিবেচনাধীন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখও নির্ধারিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত শুনানির আগেই প্রশাসন মসজিদটি ভেঙে ফেলেছে।”

​মসজিদ কমিটির আইনজীবী সগির আহমেদ জানান, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন গ্রাম প্রধান নরেন্দ্র প্রধান এই জমিটি মুসলিম সম্প্রদায়কে মসজিদ তৈরির জন্য দিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ সালের সরকারি নথিতেও এর উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৭৩ সালের আগের জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই।

মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ‘জুনেদ আহমেদ বনাম চমন সিং’ মামলাটি বর্তমানে আদালতে অমীমাংসিত। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ হাইকোর্ট থেকে ইস্যু করা একটি তথ্য স্লিপেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

​উল্লেখ্য, এই মসজিদের বিরোধ নিয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি পথ পেরিয়ে ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার আপিল করা হয়। মসজিদ কমিটির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের অবমাননার দায়ে তাঁরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন।

​এই উচ্ছেদের ফলে গ্রামের মুসলিম পরিবারগুলো নামাজ পড়ার জায়গা হারিয়ে সংকটে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *