মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে জান্তার ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন দখলে মরিয়া কেআইএ, ব্যাপক সংঘর্ষ
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের ওয়াইংমাও টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন–৫৮ ঘাঁটি ঘিরে ফেলেছে কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)। বিদ্রোহী বাহিনী এখন ঘাঁটির মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করছে এবং প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেআইএর মুখপাত্র কর্নেল নাও বুউ।
তিনি জানান, ব্যাটালিয়নটিকে রক্ষা করা সামনের চৌকিগুলো ইতোমধ্যে দখল করা হয়েছে এবং কেআইএ-নেতৃত্বাধীন বাহিনী মূল ঘাঁটির পরিধি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তবে এখনো বড় ধরনের চূড়ান্ত হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
নাও বুউ বলেন, “ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন–৫৮ নিরাপত্তা চৌকি ও ফ্রন্টলাইন ইউনিট দ্বারা ঘেরা। কিছু জায়গায় আমরা মাত্র ১০০ মিটার দূরে। সামান্য নড়াচড়াতেই গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। মিতচিনায় অবস্থিত নর্দান কমান্ড থেকে আমাদের লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে, বিমানবাহিনীও হামলা চালাচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ওয়াইংমাও শহরের কাছে কেআইএ বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে। তবে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কেআইএ।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াইংমাওয়ের সংঘর্ষে জান্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা—একজন মেজর পদমর্যাদার উপ-ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং একজন লেফটেন্যান্ট—নিহত হয়েছেন।
কাচিন রাজ্যের রাজধানী মিতচিনার সঙ্গে ইরাবতী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ওয়াইংমাও টাউনশিপে গত কয়েক মাস ধরে তীব্র লড়াই চলছে। শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের লামিইন গ্রামকে ঘিরে জান্তা বাহিনী স্থল অভিযান জোরদার করেছে।
গত সপ্তাহে কেআইএর শীর্ষ নেতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুন মাও জানান, তারা মিতচিনা—যেখানে নর্দান কমান্ড সদরদপ্তর ও একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে—এবং ওয়াইংমাও দখলের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে বর্তমানে তারা ইরাবতী গঠনে ব্যবহৃত দুটি নদীর একটি ন’মাই নদীকে ঘিরে কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে।
কেআইএ ইতোমধ্যে কাচিনে চীনের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ও বিরল খনিজ উত্তোলনকেন্দ্রসহ কয়েকটি শহর দখলের দাবি করেছে। পাশাপাশি কাচিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ভামো দখলে তারা এক বছর ধরে অভিযান চালাচ্ছে। গুন মাওর মতে, ভামোর লড়াই তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এখনো তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
কাচিনের ইন্দাওজি ও ফাকান্ত এলাকাতেও সংঘাত বিস্তৃত হয়েছে। জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও মাইন বিস্ফোরণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে কেআইএ স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন, কান্টবালু ও কথা—এই তিনটি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গুন মাওর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা কাচিন রাজ্যে প্রবেশের কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।