মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে চার ঘাঁটি দখলের দাবি প্রতিরোধ বাহিনীর

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে চার ঘাঁটি দখলের দাবি প্রতিরোধ বাহিনীর

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে চার ঘাঁটি দখলের দাবি প্রতিরোধ বাহিনীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন ও কান্টবালু জেলায় গত তিন মাসে জান্তা বাহিনীর চারটি ঘাঁটি দখল এবং একটি সামরিক ইউনিটকে পরাজিত করার দাবি করেছে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)।

এনইউজি জানায়, তাদের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং মিত্র আরাকান আর্মি (এএ) যৌথ অভিযানে ৯৬ জন জান্তা সদস্য নিহত, ৩৮ জন আহত এবং ১০১ জনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জান্তাপন্থী পিউ সও হতি মিলিশিয়া সদস্যরাও রয়েছে। পিডিএফের সামরিক কমান্ডের দাবি, অভিযানে ১৮৭টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

সবশেষ বড় সংঘর্ষটি ঘটে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি। এ সময় কাওলিন শহর থেকে থায়েত খোন গ্রামে অগ্রসরমান ২০০ জনের বেশি জান্তা সেনার একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় পিডিএফ ও এএ। পিডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে বহু জান্তা সেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে কাওলিন জেলা পিডিএফ ব্যাটালিয়ন-২–এর দুই যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি কান্টবালু টাউনশিপের কো হতাুং বো গ্রামে চার দিনব্যাপী অভিযানের পর শতাধিক জান্তা সেনাকে হটিয়ে তাদের একটি ঘাঁটি দখলের দাবি করে প্রতিরোধ জোট।

পিডিএফ কমান্ড জানায়, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর কান্টবালুর পেই গি ও নগাত পিয়াও তিন গ্রামে অবস্থিত আরও দুটি জান্তা চৌকি দখল করা হয়। চৌকিগুলো লেফটেন্যান্ট কর্নেল অং মিয়ো উ–এর অধীনে ছিল। এছাড়া পাশের কিউনহলা টাউনশিপের ইন তিন গ্রামে তিন দিনের লড়াই শেষে ২১ ডিসেম্বর আরেকটি ঘাঁটি দখল করা হয়।

জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ), যারা পিডিএফ ও এএ–এর সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই করছে, সম্প্রতি জানিয়েছে তারা সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন, কান্টবালু ও কথা জেলাকে “মুক্ত” করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই জেলাগুলো কাচিন রাজ্যে প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।

কেআইএ ইতোমধ্যে সাগাইং অঞ্চলে একটি সামরিক কমান্ড গঠন করেছে এবং কথার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে।

অন্যদিকে আরাকান আর্মি (এএ) তাদের নিজ রাজ্য রাখাইনের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ এবং পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ দখলের দাবি করেছে। পাশাপাশি তারা মাগওয়ে, বাগো ও আইয়ারওয়াদি অঞ্চলেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এএ চিন ও কাচিন রাজ্যে প্রতিরোধ অভিযানে চিন ব্রাদারহুড ও কেআইএ–এর সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই করছে।

উল্লেখ্য, এএ জাতিগত ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য হিসেবে অপারেশন ১০২৭–এ অংশ নেয়। ওই অভিযানে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সঙ্গে মিলে উত্তর শান রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *