তিমুর-লেস্তের প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করল মিয়ানমার জান্তা, যুদ্ধাপরাধের মামলায় কূটনৈতিক উত্তেজনা

তিমুর-লেস্তের প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করল মিয়ানমার জান্তা, যুদ্ধাপরাধের মামলায় কূটনৈতিক উত্তেজনা

তিমুর-লেস্তের প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করল মিয়ানমার জান্তা, যুদ্ধাপরাধের মামলায় কূটনৈতিক উত্তেজনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রবিবার তিমুর-লেস্তের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, তিমুর-লেস্তে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে—এমন প্রেক্ষাপটেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত।

বর্তমানে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় নিজেদের পক্ষে লড়ছে।

এদিকে চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (সিএইচআরও) চলতি মাসে জানায়, তিমুর-লেস্তে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিজস্ব মামলা গ্রহণ করেছে। সংগঠনটি জানায়, তাদের উপস্থাপিত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে একজন জ্যেষ্ঠ তিমুরি প্রসিকিউটরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জান্তা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ তদন্তে প্রসিকিউটর নিয়োগের বিষয়টি ‘চরম হতাশাজনক’। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, শুক্রবার তিমুর-লেস্তের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিএইচআরও দাবি করেছে, তাদের মামলায় গণধর্ষণ, ১০ জনকে হত্যা করে গণহত্যা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হত্যাকাণ্ড এবং একটি হাসপাতালের ওপর বিমান হামলার ‘অখণ্ডনীয় প্রমাণ’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংগঠনটি ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ নীতির আওতায় অভিযোগ দাখিল করেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে নিজ দেশের আদালতে বিচার পরিচালনার সুযোগ দেয়।

এই মামলাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়া-এর সদস্য। তিমুর-লেস্তে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জোটটির ১১তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

জান্তা সরকারের বিবৃতিতে আসিয়ানের সনদের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কথা উল্লেখ করে তিমুর-লেস্তের পদক্ষেপকে সনদ লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টেও মিয়ানমার জান্তা তিমুর-লেস্তের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল। সে সময় সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত নিষিদ্ধ ছায়া প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিমুর-লেস্তে সরকারের বৈঠকের জেরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।