সাগাইংয়ের প্রতিরোধঘাঁটিতে মিন অং হ্লাইং, সেনাদের ‘আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতা’ অর্জনের নির্দেশ

সাগাইংয়ের প্রতিরোধঘাঁটিতে মিন অং হ্লাইং, সেনাদের ‘আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতা’ অর্জনের নির্দেশ

সাগাইংয়ের প্রতিরোধঘাঁটিতে মিন অং হ্লাইং, সেনাদের ‘আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতা’ অর্জনের নির্দেশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রতিরোধশক্তির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাগাইং অঞ্চলের উত্তরের হোমালিন সফর করেছেন। রোববার সেখানে অবস্থান করে তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, সামরিক বাহিনীর সরবরাহ করা “আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি” পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারে সক্ষম হতে হবে।

চলতি বছর ইয়াঙ্গুনে চীনা নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে মিন অং হ্লাইং সরাসরি হোমালিনে যান। সেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি নর্থওয়েস্টার্ন কমান্ডের অধীন সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। কয়েক বছর পর সাগাইংয়ের উত্তরে তার এটিই প্রথম সফর, যেখানে এখনো প্রতিরোধ বাহিনী উল্লেখযোগ্য এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

গত সপ্তাহে কাচিন সীমান্তবর্তী বানমাউক শহর পুনর্দখলের দাবি জান্তার পক্ষ থেকে করা হয়। এর পরপরই কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (Kachin Independence Army–কেআইএ)-এর শীর্ষ নেতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুন মাও সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন, কানতবালু ও কাথা—এই তিন জেলা দখলের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি এগুলোকে “কাচিন রাজ্যের প্রবেশদ্বার” হিসেবে বর্ণনা করেন।

এর আগে সাগাইং সফরে মিন অং হ্লাইং দক্ষিণাঞ্চলের মোনইওয়া শহরেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। হঠাৎ করে হোমালিনে উপস্থিত হওয়া সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী (The Irrawaddy)-কে দেওয়া এক সামরিক বিশ্লেষক।

ওই বিশ্লেষকের ভাষ্য, “গুন মাওয়ের বার্তার পাল্টা জবাব দিতেই এ সফর। এর মাধ্যমে জান্তা দেখাতে চাইছে যে সাগাইংয়ের কিছু অংশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।”

ভাষণে মিন অং হ্লাইং সেনা ও পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি নৌ ও বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক মানের সমকক্ষ করতে যুদ্ধবিমান ও রণতরী উন্নয়ন এবং আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা সংগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে তার আশ্বাস সত্ত্বেও হোমালিন সীমান্তবর্তী শ্বে প্যি আয়ে শহর এখনো প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো সাগাইং অঞ্চলে অন্তত ছয়টি টাউনশিপ প্রতিরোধশক্তির দখলে আছে। জান্তা ও প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সাগাইং অঞ্চল জান্তাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ২০২৩ সালে উত্তর শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরুর আগেই অঞ্চলটি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, গণহত্যা ও পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

জাতীয় ঐক্য সরকারের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাগাইং অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর হাতে ১৯৪টি গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যাতে প্রাণ গেছে এক হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের।

অপারেশন ১০২৭ শুরুর পর স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো কেআইএর সঙ্গে সমন্বয় করে সাগাইং অঞ্চলে একাধিক আক্রমণ চালিয়ে বিভিন্ন শহর দখল করে।

হোমালিনের বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে মিন অং হ্লাইং আবারও দাবি করেন, সাগাইংয়ের অস্থিরতার পেছনে রয়েছে অঞ্চলের “নিম্ন শিক্ষার হার”। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি ব্যবহার করছে, অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে।

এছাড়া সাগাইংয়ে সক্রিয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে কেআইএ প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করছে বলেও তিনি একাধিকবার অভিযোগ করেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।