রামগড়ে বিজিবির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, উপকৃত শতাধিক অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার
![]()
নিউজ ডেস্ক
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আবারও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায় গরিব ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং বাঙালি জনগণের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছে বিজিবির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রামগড় ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী পরিবারগুলোর হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন।

কর্মসূচির আওতায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক পানির ফিল্টার প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়, যাতে তারা দ্রুত ঘর মেরামত করতে পারে। পাশাপাশি অসহায় ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় এ ধরনের সহায়তা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও বিজিবি যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

রামগড় ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবি নিয়মিতভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলেও জনগণের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের নৈতিক ও পেশাগত অঙ্গীকারের অংশ। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত গরিব ও অসহায় মানুষের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা নিয়মিতভাবে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে আসছি।”

তিনি আরও বলেন, “শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলেই পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। বিজিবি সবসময়ই স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং যে কোনো প্রয়োজনে বিজিবি জনগণের পাশে থাকবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন—এই দুই ধারাকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।