মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তিতে পুতিনের অনুমোদন, সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হলো।
ক্রেমলিন ২০ ফেব্রুয়ারি জানায়, পুতিন রাশিয়া–মিয়ানমার বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। চুক্তিটি গত বছরের ২০ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় উভয় দেশ একে অপরের বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। শুরুতে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততায় রূপ নেয়। রুশ রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে নেপিদো সফর করেছেন।
অন্যদিকে বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, পরিবহন, কৃষি, শ্রম, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত জান্তা মন্ত্রীরা এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের জন্য সফর করেছেন।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং একাধিকবার রাশিয়া সফর করেছেন। গত মার্চের সফরে তিনি রুশ কোম্পানিগুলোকে মিয়ানমারে লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ২০০ কোটির বেশি মানুষের আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সেতুবন্ধন হতে পারে।
এরপর থেকে দুই দেশ জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবহন খাতে সহযোগিতা জোরদারের কথা বলছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হিসেবে গত ডিসেম্বরে নেপিদোতে একটি সার কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসনিক রাজধানীর কাছে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে। তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ায় চাল রপ্তানি এবং সেখান থেকে সার ও কীটনাশক আমদানি। মধ্যমেয়াদে তানিনথারিই অঞ্চলের দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রুশ বিনিয়োগ, বন্দর ও রিফাইনারি নির্মাণ, মিয়ানমার উপকূলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্প এবং ভারতের মাধ্যমে বাণিজ্যপথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক উষ্ণতা সত্ত্বেও মিয়ানমারে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উপস্থিতি এখনো চীনের তুলনায় সীমিত।
মিয়ানমারের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কমন্ত্রী কান জ’ গত বছর জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্য দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২০–২১ অর্থবছরে যেখানে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, তা ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারে এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ছিল ৩ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ডলার। মিয়ানমার থেকে রাশিয়ায় প্রধান রপ্তানিপণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতা ও ব্যাগ, পাশাপাশি আমের পিউরি ও মানব চুলের মতো বিশেষায়িত পণ্য।
অভ্যুত্থানের পর নতুন বিনিয়োগে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। চীন-সমর্থিত বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে China–Myanmar Economic Corridor (সিএমইসি) এবং দেশজুড়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রেলপথ প্রকল্প।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে জান্তা ক্রমেই চীন ও রাশিয়ার প্রভাববলয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে। চীন-নেতৃত্বাধীন Shanghai Cooperation Organization-এ তারা সংলাপ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং BRICS-এ পর্যবেক্ষক সদস্য হওয়ার জন্য তদবির করছে। মিন অং হ্লাইং রাশিয়া-নেতৃত্বাধীন Eurasian Economic Union-এও পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।