এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা

এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা

এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

এবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর হয়ে লংগদুর উপজেলার সাথে যোগাযোগের নির্মানাধীন সড়কটি বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে ও গাছের গুড়ি ফেলে চলাচলে বাধা সৃষ্টির আভিযোগ উঠেছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে।

গতকাল শুক্রবার সড়কে বাধার মুখে পড়ে ঐ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।

জানা যায়, বামে লংগদু আর্মি ক্যাম্পের পরের পাহাড় থেকে বটতলা, ডাকঘরমন পাড়া পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন জায়গায় মাটি কেটে রাখা রয়েছে।

এছাড়া সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এর আগেও, বড়পুলপাড়া ব্রীজ এলাকার সড়কের কাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটর এবং ড্রজার বালু দিয়ে ক্ষতি করে।

এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা

ধারনা করা হচ্ছে সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সহজ চলাচল বাধাগ্রস্ত গতে পারে। তাই তারা বারবার সড়ক নির্মানে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশিদ জানান, ‌‌‌‌আ‌মরা সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়ে দুটি তথ্য পাচ্ছি, একটি হলো ইউপিডিএফ আরেকটি হলো রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি। লঞ্চ মালিক সমিতি ইউপিডিএফকে ব্যবহার করে সড়কটিতে যোগাযোগ বন্ধ রাখলে লঞ্চ মালিকদের সুবিধা হয়।’

তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিয়ে আবারও কাজ শুরু করা হবে। আশা করছি এই ঈদে লংগদু ও বাঘাইছড়ির মানুষ এই সড়ক দিয়ে বাড়ি যেতে পারবে।

তবে জানতে চাইলে নানিয়ারচর থানার ওসি মোঃ তৌফিক-উল ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এছাড়া নানিয়ারচর-লংগদু যে সড়ক নির্মান হচ্ছে সে বিষয়েও তিনি জানেন না বলে জানান।

সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ

এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মোটরসাইকেল চলাচলের উপযোগী ওই সড়কটির নির্মানকাজ কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। নির্বাচনের পর আবার কাজ শুরু হলে দেখা যায়, সড়ক নির্মানে ব্যবহৃত এক্সেভেটরের যন্ত্রপাতি লুট ও ভাঙচুর করা হয়েছে, এসব সরঞ্জোমের ইঞ্জিনে বালু ও পানি ঢুকিয়ে অকেজো করে রাখা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সম্প্রতি ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা দুটি গাড়ি অকেজো করেছে, যার ফলে শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা

উল্লেখ্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি জেলার নানিয়ারচর থেকে লংগদু উপজেলার সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে একের পর এক ষড়যন্ত্র ও বাঁধা প্রদান করে আসছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ। তিন উপজেলার সংযোগ এই সড়কটির কাজ শেষ হলে রাঙামাটি জেলা সদরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়িতে সরাসরি যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে সময় ও অর্থ বাঁচবে, কৃষি ও পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবায় সহায়ক হবে।

জানা যায়, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটি নিয়ে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কোন সরকারের আমলেই। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, লংগদু উপজেলার সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিনহাজ মুরশীদ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

শুরুতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ বেশ কিছু ঠুনকো অভিযোগে সড়ক নির্মান বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। তবে সেসময় খুব বেশী সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তীতে পাহাড়ের সাধারন মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে ভুমি হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করে মাঠে নামায় সন্ত্রাসীরা। বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ-সমাবেশের পরও বৃহত্তর রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরবাসীর প্রাণের দাবি এই সংযোগ সড়ক নির্মান কাজ ঠেকাতে পারেনি ইউপিডিএফ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

নানা বাধা পেরিয়ে কাজ শুরু হয় কাঙ্খিত ওই সড়কের। আট মাসের কাজের পর লংগদু থেকে নানিয়ারচর পর্যন্ত রাস্তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আসে। তবে এবার নতুন করে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। সংযোগ সড়ক হলে তিন উপজেলার মানুষ সহজে জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। তবে সড়ক নির্মাণের ফলে মানুষের যাতায়াত বাড়লে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ভাটা পড়বে বলে ইউপিডিএফ নানা ষড়যন্ত্র করেছে।

ভিডিও: এবার লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের মাঝে মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *