সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ: ২০ অসহায় পরিবার পেল নতুন ঘর, শতাধিক পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় ও গৃহহীন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০টি অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫টি জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এতে অসহায় ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে নতুন ঘর হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনে স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।

তিনি নবনির্মিত ও সংস্কারকৃত ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজানসহ স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং জুরাছড়ি জোনের উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ২০টি অসহায় পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ঘর নির্মাণ করা হয় এবং আরও ৫টি পরিবারের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করা হয়। প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা পৌঁছে দেয়। নতুন ঘর পেয়ে অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে জীবন শুরু করার সাহস পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েরা যদি শিক্ষিত হয়ে ওঠে, তাহলে তারাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহিঃশত্রুর মোকাবিলাই সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। তবে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনী বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনসচেতনতার মাধ্যমে একটা সময় পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বিলীন হয়ে যাবে। এক সময় এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সেনাবাহিনী সীমান্ত রক্ষার মূল দায়িত্বে ফিরে যেতে পারবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক আরও বলেন, এলাকার অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মহতী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ঘরগুলো অসহায় পরিবারগুলোর জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তা এনে দেবে এবং তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
নতুন ঘর পেয়ে উপকারভোগী অসহায় ও প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি, আনন্দ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এই মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।