ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের কূপে খনন শুরু, মিলতে পারে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট
![]()
নিউজ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরে তিতাসের ৩১ নম্বর কূপে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ৫৭০ মিটার গভীরে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে কূপের খনন কাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একে এম মিজানুর রহমান।
দেশে যখন জ্বালানি সংকট তিব্র আকার ধারণ করেছে ঠিক সেই মূহুর্তে আঁধারে আলোর দ্বীপ শিখার খবর দিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কর্তৃপক্ষ। ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে মাটির গভীরে গ্যাসের অস্তিত্বের সন্ধান পায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপরই নতুন এই গভীর কূপটি খননের উদ্যোগ নেন তারা।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল-এর অধীন তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে ২টি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের লক্ষ্যে ‘তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে ২টি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন শীর্ষক’প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় তিতাস-৩১ নম্বর গভীর এবং বাখরাবাদ-১১ গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য সমন্বিত খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চীনের সিসিডিসি কোম্পানীর সাথে গত বছরের ৭ আগস্ট কূপ দুটি খননের জন্য চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, খনন যন্ত্রপাতি ও খনন মালামাল মোবিলাইজেশন শেষে আজ সকালে তিতাস ফিল্ডের গভীর অনুসন্ধান কূপের তিতাস-৩১ স্পাড-ইন (খনন) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
তিনি আরো জানান, তিতাস-৩১ নম্বর (গভীর) অনুসন্ধান কূপের তিতাস ফিল্ডের অনাবিষ্কৃত ওভারপ্রেশার জোন এর নিচে ৪টি স্তরকে টার্গেট করে ড্রিলিং করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, ত্রি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে তিতাসের ৩১ নম্বর কূপে গ্যাসের অস্তিত্ব পায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশে প্রথমবারের মতো নতুন কূপ হিসেবে তিতাসের ৩১ নম্বর কূপটি গভীর ভাবে খননের উদ্যোগ নেয় বিজিএফসিএল। কূপটি ৫ হাজার ৭শ মিটারের বেশি মাটির গভীরে খনন করা হবে। কিলোমিটারের দৈর্ঘ্য হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার মাটির গভীরে খনন করা হবে এই কূপ। খনন কাজে আনুমানিক ২১০ দিন সময়ের প্রয়োজন হবে। গভীর অনুসন্ধান কূপটি খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তিনি বলেন আমরা আশাবাদী কাঙ্খিত গ্যাস পাবো।
পেট্রো বাংলা পরিচালক (অর্থ) একে এম মিজানুর রহমান জানান, গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসাবে তিতাসের ৩১ নম্বর কূপটি খনন করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই কূপ থেকে গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
বিজিএফসিএল এর তথ্য অনুযায়ী একই প্রকল্পের অধীনে বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপ খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। দুটি কূপ খননে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। আগামী নভেম্বর মাসে তিতাসের ৩১নং কূপটি খনন কাজ শেষ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।