মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, প্রথম বিদেশি সাক্ষাৎ পেলেন স্পিকার খিন ই

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, প্রথম বিদেশি সাক্ষাৎ পেলেন স্পিকার খিন ই

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, প্রথম বিদেশি সাক্ষাৎ পেলেন স্পিকার খিন ই
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সামরিক জান্তা-সমর্থিত নতুন পার্লামেন্ট বসার পর আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে তেমন কোনো স্বীকৃতি না পাওয়ার মধ্যেই মিয়ানমারের নতুন নিম্নকক্ষের স্পিকার ইউ খিন ই তার প্রথম বিদেশি অতিথির সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কাল্লায়ানা বিপাত্তিপুমিপ্রাতেস বৃহস্পতিবার নেপিদোতে ইউ খিন ইর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সোমবার স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটি সাবেক পুলিশ প্রধান ও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের প্রথম কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।

নিম্নকক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসে ইউ খিন ই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করার পর। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

অন্যদিকে, জান্তা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বৈঠকের কোনো উল্লেখ করেনি। বরং তারা কাল্লায়ানার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কো কো কিয়াওয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের খবর প্রকাশ করে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সীমান্ত স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ইউ খিন ইর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে এই নীরবতা ২০১১ সালে মিয়ানমারের পার্লামেন্ট প্রথম বসার সময়ের চিত্রের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সে সময় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পার্লামেন্টের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল এবং বিদেশি সরকারগুলো দ্রুত নতুন নেতৃত্বকে স্বীকৃতি জানিয়েছিল।

সাবেক জেনারেল শ্বে মান নিম্নকক্ষের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই চীন, ভিয়েতনাম ও কুয়েত আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানায়। পরবর্তী দিনগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, আসিয়ান আন্তঃপার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি, লাওস ও পাকিস্তানও একই ধরনের বার্তা পাঠায়।

কিন্তু এবার জান্তা-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর চার দিন পেরিয়ে গেলেও চীন ও রাশিয়ার মতো প্রধান মিত্র দেশগুলোও ইউ খিন ইর নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রকাশ্য আগ্রহ দেখায়নি।

৭৩ বছর বয়সী ইউ খিন ই ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে মিয়ানমারের চতুর্থ নিম্নকক্ষ স্পিকার। তার পূর্বসূরিরা হলেন—ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সরকারের সময় ইউ শ্বে মান এবং ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের সময় ইউ উইন মিন্ট (যিনি পরে প্রেসিডেন্ট হন) ও টি খুন মিয়াত।

ডিফেন্স সার্ভিসেস একাডেমির ১৭তম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েট ইউ খিন ইকে সাবেক সামরিক শাসক থান শ্বে থেকে শুরু করে বর্তমান জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আমল পর্যন্ত ধারাবাহিক সামরিক শাসনের কঠোর সমর্থক হিসেবে দেখা হয়।

থান শ্বের আমলে পুলিশ প্রধান হিসেবে তিনি গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে স্যাফরন বিপ্লব দমনও ছিল। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সময় তিনি অভিবাসনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডি পুনরায় বড় জয় পাওয়ার পর সামরিকপন্থী সমাবেশ সংগঠনে ইউ খিন ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে আবারও জান্তা সরকারের মন্ত্রিসভায় অভিবাসনমন্ত্রী করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি ইউএসডিপির চেয়ারম্যান হন এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জান্তা-আয়োজিত নির্বাচনে দলটির জয়ের পর তাকে নিম্নকক্ষের স্পিকার করা হয়। নতুন পার্লামেন্টে সামরিকপন্থী ইউএসডিপির প্রাধান্য থাকায় আগামী পাঁচ বছর তিনি দলটির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আইনসভা পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।