পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ‘শব্দচয়নে সতর্কতার’ আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ‘শব্দচয়নে সতর্কতার’ আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ‘শব্দচয়নে সতর্কতার’ আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে উল্লেখ করতে শব্দচয়নে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ। গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, ওই সভায় মন্ত্রী বিভিন্ন জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অনিচ্ছাকৃতভাবে “আদিবাসী” শব্দ ব্যবহার করেন। বিষয়টি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে নতুন করে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, যেখানে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। সরকারি নথিপত্রে “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী”, “উপজাতি” বা “ethnic communities” শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে “আদিবাসী” শব্দটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবহৃত হলেও দেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি সংবেদনশীল ও বিতর্কিত পরিভাষা।

সংগঠনটির দাবি, অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকে স্পর্শকাতর। এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময় নানা দাবি ও বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে, যা জাতীয় সংহতির প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

সংগঠনটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-এর উল্লেখ করে জানায়, সেখানে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে “উপজাতি” ও “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ মনে করে, অসতর্ক শব্দ ব্যবহারে বিভ্রান্তি বা অপ্রত্যাশিত বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। তাই যেকোনো বক্তব্য বা কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থ, সংবিধান ও সামাজিক সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভ্রান্তিমূলক বা অস্বচ্ছ কার্যক্রম যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিবৃতির শেষে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিতর্কিত পরিভাষা ব্যবহারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে।

একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed