মিজোরামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তি, তিন দশকের সশস্ত্র তৎপরতার অবসান

মিজোরামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তি, তিন দশকের সশস্ত্র তৎপরতার অবসান

মিজোরামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তি, তিন দশকের সশস্ত্র তৎপরতার অবসান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে লালহমিংথাঙ্গা সানাতে নেতৃত্বাধীন হামার পিপলস কনভেনশন (ডেমোক্রেটিক) [এইচপিসি(ডি)] গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র তৎপরতার অবসান ঘটলো বলে মনে করা হচ্ছে।

সিনলুং হিলস কাউন্সিল (এসএইচসি)-এর সদর দপ্তর সাকাওয়ার্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক (এমওএস) স্বাক্ষর করেন মিজোরামের স্বরাষ্ট্রসচিব ডেভিড লালিথানতলুয়াঙ্গা এবং এইচপিসি(ডি)-এর সভাপতি লালহমিংথাঙ্গা সানাতে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী লালমুয়ানপুইয়া পুন্টে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ হামার সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিতে মিজোরামের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হামার অধ্যুষিত এসএইচসি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বাড়তি বাজেট বরাদ্দ, বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে সানাতে নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর ৪৩ জন সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে মূলধারায় ফিরে আসবেন। তাদের জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল আইজল সংলগ্ন সেসাওং এলাকার সেন্ট্রাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে একটি ‘হোমকামিং’ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।

এছাড়া হামার সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসব ‘সিকপুই রুওই’-কে (প্রতি বছর ৫ ডিসেম্বর উদযাপিত) সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী লালমুয়ানপুইয়া পুন্টে এই চুক্তিকে একটি ‘মাইলফলক’ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে মিজোরামে জাতিগত সশস্ত্র তৎপরতার অবসান ঘটলো। তিনি বলেন, উন্নয়নের অভাব অনেক সময় অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এই চুক্তির উন্নয়নভিত্তিক প্রতিশ্রুতিগুলো স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

স্বরাষ্ট্রসচিব ডেভিড লালিথানতলুয়াঙ্গা জানান, এর আগে ১৯৯৪ ও ২০১৮ সালেও হামার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি চুক্তি হয়েছিল। ২০২৬ সালের এই সর্বশেষ চুক্তির মাধ্যমে সেই শান্তি প্রক্রিয়া পূর্ণতা পেল।

অন্যদিকে, লালহমিংথাঙ্গা সানাতে তিন দশকের বেশি সময়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই চুক্তি হয়তো সব দাবি পূরণ করতে পারেনি, তবে এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, এইচপিসি(ডি) এসএইচসি এলাকার প্রশাসনিক সংস্কার, জেলা পরিষদ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের অধীনে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর, বাড়তি অর্থ বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ‘সিকপুই রুওই’ ও ‘হামার শহীদ দিবস’-কে স্থানীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল থেকে সক্রিয় থাকা হামার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সানাতে নেতৃত্বাধীন এই অংশটি ছিল শেষ সক্রিয় গোষ্ঠী। সর্বশেষ এই চুক্তিকে মিজোরামে সশস্ত্র তৎপরতার শেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *