মাটিরাঙ্গায় স্বজাতির যুবক কর্তৃক ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ, আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড়
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় এক ত্রিপুরা কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের সাপমারা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী কনিকা ত্রিপুরা (১৫) গত ১৩ এপ্রিল নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর পরিবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।
এরপর সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সুরেশ বরণ ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে স্বজাতির এক আত্মীয় তরুণ কৃপন ত্রিপুরার মাধ্যমে ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি কিশোরীর মানসিক ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এবং আত্মহত্যার আগে সে একটি চিরকুটে তার সঙ্গে অন্যায় হওয়ার কথা লিখে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণের আগে থেকেই পরিচয় ও কথাবার্তা ছিল, যা এক পর্যায়ে পারিবারিকভাবে আপত্তির মুখে পড়ে। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং একসময় কৌশলে বাড়ির বাইরে দেখা করতে ডাকা হয়। গত ১৩ এপ্রিল ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর সুযোগে ওই কিশোরীকে বাড়ির বাহিরে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে একটি পানীয় দেওয়া হয়, যা সে সাধারণ পানীয় ভেবে পান করলেও পরে নিজের আচরণে অস্বাভাবিকতা অনুভব করে বলে চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হতে হয়। ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে সে মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বলছে, এই ঘটনার মানসিক আঘাত, পারিবারিক চাপ ও সামাজিক পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবেই কিশোরী চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আত্মহত্যার আগে কিশোরী দুটি পৃথক চিরকুটে নিজের অবস্থার কথা লিখে যায়। সেখানে সে উল্লেখ করে, সে খারাপ মানুষ নয় এবং এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ থাকলেও বেড়াতে গিয়ে ওই ব্যক্তি তাকে একটি পানির বোতল দেয়, যা সে সাধারণ পানি ভেবে পান করে। পরে তার আচরণে পরিবর্তন অনুভব করলেও বিষয়টি বুঝতে পারেনি। অন্য চিরকুটে সে জানায়, বাড়িতে আগুন লাগার কথা বলে তাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে দেখা করতে গিয়ে মোবাইল ফোন দিতে বলা হয়। পাশাপাশি সে ক্ষমা চেয়ে উল্লেখ করে, পরিচিত ওই ব্যক্তি তাকে ভালো ভালো কথা বলে কাছে টেনে নিয়ে পরে অন্যদিকে নিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে পারিবারিক বিরোধের কথাও শোনা যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে এলাকায় একটি সামাজিক সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্যগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে মামলা দায়েরের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিশেষ করে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানাই থেকে যেতে পারে বলে মত দেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে একটি ত্রিপুরা কিশোরীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।