সেনাবাহিনী ও বিদ্যানন্দের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ: ১ টাকায় বাজার ও ফ্রি চিকিৎসা সেবায় উপকৃত শত শত মানুষ
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ১ টাকায় বাজার কার্যক্রম ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পের মাধ্যমে একদিনেই শত শত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এ উদ্যোগ।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকাল থেকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোন (৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট) এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজন করে। এতে প্রায় ৫০০ দরিদ্র পরিবার অংশগ্রহণ করে এবং প্রতিটি পরিবার প্রতীকী ১ টাকার বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ পায়।

আয়োজকরা জানান, প্রতিটি পরিবার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মূল্যের বাজারসামগ্রী গ্রহণ করেছে। দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মানবোধ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সহায়তা গ্রহণে মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই প্রতীকী মূল্য হিসেবে মাত্র ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
“এক টাকার বাজার” সুপারশপে প্রায় ১৭ ধরনের পণ্য রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল—১ টাকায় ১ কেজি চাল, ১.৫ টাকায় ১ ডজন ডিম, ৩ টাকায় ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ টাকায় আটা, ২ টাকায় মসুর ডাল, ১ টাকায় নুডলস, বিস্কুট, লবণ, সুজি, কাপড়, শিক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করে কেনাকাটার সুযোগ পান, যা প্রচলিত ত্রাণ বিতরণের পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
একইসঙ্গে মাঠের অন্য প্রান্তে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। মেডিসিন, চক্ষু, শিশু ও গাইনি বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ৬ জন চিকিৎসক দিনব্যাপী চিকিৎসা প্রদান করেন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত মানুষদের জন্য চক্ষু ও গাইনী বিশেষজ্ঞদের সেবা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমাও বিতরণ করা হয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউসার হামিদ, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “দুর্গম এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় উপকারভোগী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম খুবই প্রয়োজনীয়। এতে দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সম্মানজনকভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং মানবিক সহমর্মিতা, সম্মান ও অংশীদারিত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।