বাঙালিরা কোনদিন আমাদের শত্রু হতে পারে না- জেএসএস সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা
জেএসএস (এম এন লারমা) সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা।
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাউন হল মিলনায়তনে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি- জেএসএস (এম এন লারমা)’র সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা।
তিনি বলেন, “বাঙালি আমাদের শত্রু? নিশ্চয়ই নয়। তারা বাংলাদেশের খেটে খাওয়া, নির্যাতিত মানুষ, তারা আমাদের বন্ধু, তারা আমাদের কোনদিনও শত্রু হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিপীড়িত, তারাও নিপীড়িত; তারা শোষিত, আমরাও শোষিত; তারা বঞ্চিত, আমরাও বঞ্চিত—আমরা সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তাদের দেখি।”
রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, তার যে অর্থনৈতিক সিস্টেম, এটা কোনদিনই ভালো আমরা বলতে পারি না।”
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মহান নেতা এম এন লারমা জাতীয় সংসদে সংবিধান প্রণয়নের সময় যে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেখানে খেটে খাওয়া, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার ভাষায়, “অধিকার এক হাতে দেওয়া হয়েছে, আর অন্য হাতে সেই সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে একই সমাবেশে জেএসএস (এম এন লারমা)’র সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া এখানে সত্য বোঝা কঠিন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, তাই অধিকার আদায়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা আমলেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পিসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যয় চাকমা, বাসদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক আল কাদেরি জয়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রামের সভাপতি শুভ দেবনাথ এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আহ্বায়ক মায়া চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুজন চাকমা (ঝিমিত)।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়া এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর টাউন হলে এসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শেষ হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।