মিন অং হ্লাইং সরকারের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার, ‘সন্ত্রাসী’ নির্মূলের হুঁশিয়ারি নতুন সেনাপ্রধানের

মিন অং হ্লাইং সরকারের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার, ‘সন্ত্রাসী’ নির্মূলের হুঁশিয়ারি নতুন সেনাপ্রধানের

মিন অং হ্লাইং সরকারের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার, ‘সন্ত্রাসী’ নির্মূলের হুঁশিয়ারি নতুন সেনাপ্রধানের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উ তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আক্রমণাত্মক বক্তব্য, সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং নেপিদোর নতুন ছদ্ম-বেসামরিক সরকারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বার্তা দিচ্ছেন।

সোমবার দক্ষিণ শান রাজ্যের কালাও শহরে সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইয়ে উইন উ সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী চিন রাজ্যের ফালাম শহর পুনর্দখল করেছে এবং কারেন রাজ্যে মিয়াওয়াদি থেকে কক্কারেইক ও মান্দালয় থেকে কাচিন রাজ্যের মিচকিনা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর পুনরায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

তার ভাষায়, এসব অভিযান প্রমাণ করছে যে সেনাবাহিনী আবারও কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে।

ইয়ে উইন উ সেনাসদস্যদের উদ্দেশে আরও বলেন, তাদেরকে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে, সামরিক প্রশিক্ষণে মনোযোগ বাড়াতে হবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত বিশ্লেষণ করে নিজেদের যুদ্ধ সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।

গত মার্চের শেষদিকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার নেতৃত্বে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ম্যাগওয়ে, সাগাইং ও চিন রাজ্যসহ প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে সেনাবাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও পরাজয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন উ সেনাবাহিনীর দুর্বলতার জন্য ‘দলত্যাগীদের’ দায়ী করেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেন।

৬০ বছর বয়সী ইয়ে উইন উ অভ্যুত্থানকারী নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ অনুগতদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি মিয়ানমারের ইতিহাসে প্রথম সামরিক গোয়েন্দা প্রধান, যিনি পুরো সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদে উন্নীত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার উত্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি অফিসার ট্রেনিং স্কুলের (OTS) গ্র্যাজুয়েট, যেখানে মিয়ানমারের সামরিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ডিফেন্স সার্ভিসেস অ্যাকাডেমির (DSA) প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে তার নিয়োগকে অনেকেই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে দেখছেন।

কালাওয়ের বৈঠকে ইয়ে উইন উ স্পষ্টভাবেই জানান, সেনাবাহিনী নতুন সরকারের নেতৃত্বের অধীন থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন সেনাপ্রধানের কঠোর অবস্থান দেশটিতে আরও সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *