থানচিতে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা জোরদারে ২৬ ধরনের সরঞ্জাম দিল তহ্জিংডং
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের অতি তীব্র অপুষ্টি বা সিভিয়ার অ্যাকিউট ম্যালনিউট্রিশন (এসএএম) চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে ২৬ ধরনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসাসামগ্রী হস্তান্তর করেছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তহ্জিংডংয়ের উপজেলা সমন্বয়কারী থুইসাচিং মারমার কাছ থেকে সরঞ্জামগুলো গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে তহ্জিংডং বাস্তবায়িত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ও প্রাণরক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা’ প্রকল্পের আওতায় এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।
হস্তান্তর করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শিশুদের উচ্চতা ও দৈর্ঘ্য পরিমাপের বিশেষ বোর্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য বড় বৈদ্যুতিক শীতলীকরণ যন্ত্র, বিশেষ পুষ্টিকর খাবার তৈরির মিশ্রণযন্ত্র, বৈদ্যুতিক কেটলি, স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র, থালা-বাসনসহ এসএএম ইউনিট পরিচালনার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অনেক সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা সময়মতো নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সরঞ্জাম উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সেবার পরিধিও বাড়াতে সহায়ক হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরঞ্জামগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করে এসএএম ইউনিটের সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।
তিনি বলেন, থানচির মতো দুর্গম এলাকায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি এ ধরনের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জীবন রক্ষায় সরঞ্জামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য জরুরি ও প্রাণরক্ষাকারী স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা সহজলভ্য করাই প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসএএম ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাঁরা জানান, হস্তান্তর করা সরঞ্জামগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিচর্যা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও পুষ্টিগত অবস্থা পর্যবেক্ষণেও এসব সরঞ্জাম সহায়ক হবে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থানচিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, পুষ্টিকর খাবারের অপ্রতুলতা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জটিলতার কারণে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের জন্য অপুষ্টি মোকাবিলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন বাস্তবতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে সরঞ্জাম সরবরাহকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তহ্জিংডংয়ের বান্দরবান জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী এস এম জাফরুল্লাহ, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট ডা. ম্রায়ইপ্রু মারমা (পিংকি), লজিস্টিক অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে, যা শিশু অপুষ্টি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।