আলীকদমে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ পরিবারকে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা

আলীকদমে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ পরিবারকে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা

আলীকদমে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ পরিবারকে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বান্দরবান জেলা ইউনিট। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি গৃহস্থালি ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আলীকদম উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া হয়েছে সাত দিনের ফুড প্যাকেজ, এক সেট তৈজসপত্র, একটি তারপলিন, একটি মাদুর, একটি মশারি ও একটি ডিগনিটি কিট। দুর্যোগের পর ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে সংকটে পড়া পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম। এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান মুজিবুর রশীদ, সেক্রেটারি দৌলতুল কবির সিদ্দিকী, বান্দরবান জেলা কর্মকর্তা আসাদুল হায়দার চৌধুরী এবং এনডিআরটি (NDRT) ও ওয়াশ (WASH) হেডকোয়ার্টারের রোকসানা তিথি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আলীকদম উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলীকদমে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ পরিবারকে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু পরিবার ঘরবাড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে দুর্ভোগে পড়ে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্যের পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয় ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তারপলিন, মাদুর ও মশারি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অস্থায়ী বসবাসে সহায়তা করবে। অন্যদিকে ফুড প্যাকেজ তাদের তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় দ্রুত ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তার। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ায় তাদের সাময়িক সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।

তাঁরা আরও বলেন, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সংকট দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব।

আলীকদমে ১৪০ পরিবারের মাঝে এই সহায়তা বিতরণকে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। দুর্গত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরাতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।