গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে: ভারত

গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে: ভারত

গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে: ভারত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি। ফলে নতুন করে চুক্তিতে পৌঁছাতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রেখেছে দিল্লি ও ঢাকা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এ ছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের গুঞ্জনের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জয়েন্ট রিভার্স কমিশন) রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

ভারতের এনএসএ অজিত দোভালের ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা আপডেট নেই।’

এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও কাশ্মীর ইস্যু জাতিসংঘে তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।’

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে। ভারত দ্বিপক্ষীয়ভাবে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করেছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখী হন এই কর্মকর্তা।

জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষেই অটল রয়েছে।’

পারস্য উপসাগরে কতটি ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ রয়েছে এবং সেখানে কতজন ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন, জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে, অর্থাৎ হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে, ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। মোট ১২টি জাহাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই জাহাজগুলোতে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক আছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। শিপিং মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত তাদের নিরাপত্তা নজরদারিতে রাখছে।’

সম্প্রতি হাঙ্গেরির গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে মধ্যস্থতা করা একটি ‘অকৃতজ্ঞ কাজ’। তবে দুই দেশ নিজেরাই সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘এসসিওর যে কোনো নতুন সদস্যপদের বিষয়টি সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *