মণিপুরে নিরাপত্তাবাহিনীর তিন দিনের অভিযানে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
![]()
ইম্ফল ও চূড়াচাঁদপুরে পৃথক অভিযানে পিস্তল, এসএমজি কারবাইন, রাইফেল, গ্রেনেড ও শতাধিক গুলি জব্দ; উদ্ধার বুলেটপ্রুফ প্লেট ও কেভলার হেলমেটও
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুর রাজ্যে পৃথক তিনটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। এসব অভিযানে পিস্তল, এসএমজি কারবাইন, বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, একাধিক হ্যান্ড গ্রেনেড, ডেটোনেটর ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি অভিযানে ১ কেজির বেশি সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগারসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মণিপুর পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ও ২৮ অক্টোবর রাজ্যের ইম্ফল পূর্ব, থৌবাল ও চূড়াচাঁদপুর জেলায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। পৃথক অভিযানগুলোতে মণিপুর পুলিশের কমান্ডো ইউনিট, জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) এবং আসাম রাইফেলসের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর ইম্ফল পূর্ব জেলার পুখাও তেরাপুর এলাকায় মণিপুর পুলিশের স্পেশাল কমান্ডো ইউনিট ও আসাম রাইফেলসের ৩৩ ব্যাটালিয়ন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও সেগুলোর ম্যাগাজিন, একটি গ্রেনেড লঞ্চার, চারটি একনলা বন্দুক এবং ছয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ওই অভিযান থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৯টি গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি লোহার বুলেটপ্রুফ প্লেট, ২২টি কেভলার হেলমেট, গ্রেনেডের ডেটোনেটর, বাহুতে ব্যবহারের সুরক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এগুলো সেখানে রেখেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই দিন থৌবাল জেলার ইকোপ পাট এলাকায় পৃথক যৌথ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে থৌবাল পুলিশের কমান্ডো সদস্য ও আসাম রাইফেলসের ৩৩ ব্যাটালিয়ন। এ অভিযানে দুটি এসএমজি কারবাইন, চারটি দোনলা ও একনলা বন্দুক এবং তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া উদ্ধার করা অস্ত্রের সঙ্গে চারটি হ্যান্ড গ্রেনেড, দুটি ডেটোনেটর, বিভিন্ন ধরনের ৩৯ রাউন্ড জীবিত গুলি এবং একাধিক ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদের মালিকানা, উৎস কিংবা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে এগুলোর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, ২৬ অক্টোবর রাতে চূড়াচাঁদপুর জেলার এম. সংগেলের কাছের কিংকিন গ্রামে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। চূড়াচাঁদপুর জেলা পুলিশ, সিআরপিএফের ১২৯ ব্যাটালিয়ন এবং আসাম রাইফেলসের পঞ্চম ব্যাটালিয়নের যৌথ দল এ অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক একটি সাদা রঙের বোলেরো গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় বিদেশে তৈরি একটি একে-সিরিজের রাইফেল, একটি বিদেশে তৈরি এমএ১ রাইফেল, বিভিন্ন ধরনের ২৪০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের প্যাকেটে থাকা আনুমানিক ১ দশমিক ০২৭ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়। ব্রাউন সুগার হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনায় লেটখোথাং খংসাই (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ডি. লাংজল গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) চুক্তির আওতাভুক্ত সংগঠন কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্টের (মিলিটারি কাউন্সিল) সদস্য বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর এ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য এবং সংশ্লিষ্ট বোলেরো গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদকের উৎস, এগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মণিপুর পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনটি অভিযানেই বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি গ্রেনেড, ডেটোনেটর, বুলেটপ্রুফ প্লেট ও কেভলার হেলমেটের মতো সুরক্ষাসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিন অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের সঙ্গে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।